শেষ মুহুতে জমে উঠেছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পশুর হাটে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়ছে।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সেতাবগঞ্জ হাট। বোচাগঞ্জ উপজেলার একমাত্র কোরবানির পশুর হাট সেতাবগঞ্জ হাট নামে পরিচিতি। এই হাটে প্রতি সোমবারে করে বসে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পশুর হাটে গরুর সুস্থতা যাচাইয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে ও জাল নোট পরীক্ষার জন্য নিয়োজিত আছে ব্যাংক প্রতিনিধি।
সোমবার সেতাবগঞ্জ হাটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। বর্তমানে হাটে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরু বিক্রি হচ্ছে। ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।
ক্রেতা ফেরদৌস রহমান (গোল্ডেন মাস্টার) বলেন, আমি দেখার জন্য বাজারে গিয়েছিলাম। আমার এক সহকর্মী বলল স্যার গরু নিবেন। আমিও একটা গরু নিয়েছি। আপনিও নিয়ে নেন। তুলনামুলক দাম কম মনে হচ্ছে। ওনার কথামত ৯১ হাজার টাকা দিয়ে একটা গরু নিলাম।বড় গরু কিছুটা দাম কম মনে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা রাব্বি বলেন, হাটে এসে দাম যাচাই করছি। তবে মাঝারি গরুর দাম তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
স্থানীয় খামারি রহিমুল ইসলাম বলেন, খাদ্য ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনের খরচও বেড়েছে। তারপরও আমরা ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে ভালো গরু দেওয়ার চেষ্টা করছি।
মঙ্গলপুর থেকে আসা গরু বিক্রেতা শরিফুল বলেন, এই হাটে বেচা কেনা কম হলোও। সামনের সোমবার হাটে ক্রেতার ভীড় বাড়বে। এবার তুলনামুলক বড় গরুর দাম কম।
হাটের ইজারাদার ম্যানেজার আনসারুল হক (পলাশ) বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে নিরাপত্তা, আলোর ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনাও আরও বাড়বে। হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ একটি ক্রেতার জন্য অফার দিয়েছে।
হাটে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বেচাকেনা বাড়ছে। অনেক ক্রেতাই আগেভাগে এসে পশুর দাম যাচাই করছেন।
বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মিজানুর রহমান বলেন, কোরবানির পশুর হাটে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই রোধ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু কায়েস বিন আজিজ জানান, উপজেলায় নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। এ বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২৯ হাজার ৬৩০টি গবাদিপশু। এর মধ্যে গরু, ছাগল ও ভেড়া উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় চাহিদা রয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৫৩৩টি পশু।ফলে প্রায় ৭ হাজার ৯৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এবিষয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মারুফ হাসান বলেন, সেতাবগঞ্জ পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তে ব্যাংক প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে বিজিবিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।

