জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শনিবার বাংলাদেশের হারটা বড় হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলামের। ব্যাটারদের মধ্যে এগিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিমও। অন্যদিকে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে সেই ম্যাচে বল হাতে ভালো করেছেন তাসকিন। ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ে। ৯ ধাপ এগিয়ে ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় এখন তাঁর অবস্থান ১২ নম্বরে। তাসকিনের রেটিং পয়েন্ট ৫৮৬।
তার চেয়ে এক ধাপ ওপরে আছেন সতীর্থ শরীফুল ইসলাম। দুই ধাপ এগিয়ে ৫৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে উঠে এসেছেন বাঁহাতি এই পেসার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া রিশাদ হোসেন অবশ্য পিছিয়েছেন। ছয় ধাপ নেমে তাঁর অবস্থান এখন ৮৪ নম্বরে।
ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের জন্য আছে সুখবর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৪৬ রান করা তানজিদ হাসান তামিম তিন ধাপ এগিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে যৌথভাবে ২১ নম্বরে রয়েছেন তিনি।
তবে অন্য কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যাটারের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। তাওহীদ হৃদয় তিন ধাপ পিছিয়ে ২৫ নম্বরে নেমেছেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ছয় ধাপ পিছিয়ে যৌথভাবে ৩৭ নম্বরে আছেন। তিন ধাপ অবনতি হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজেরও। তিনি এখন ৭৯ নম্বরে।
ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে রশিদ খানের আধিপত্য আরও বেড়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার। দুর্দান্ত সেই বোলিংয়ে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ২৮।
এতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের সঙ্গে রশিদের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ পয়েন্টে। ওয়ানডের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও উন্নতি হয়েছে রশিদের। দুই ধাপ এগিয়ে ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। ওয়ানডে বোলারদের তালিকায় আবরার আছেন দ্বিতীয় স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ রয়েছেন তৃতীয় স্থানে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের বড় জয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেদিকউল্লাহ আতাল। ১১০ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় শতক। আতালের সেঞ্চুরিতে ভর করে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে হারায় আফগানিস্তান।
এমন পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন আতাল। ৩২ নম্বর থেকে উঠে এসেছেন ২০ নম্বরে। ব্যাটারদের তালিকায় উন্নতি হয়েছে পাকিস্তানের সালমান আগা ও ইংল্যান্ডের বেন ডাকেটেরও। এক ধাপ এগিয়ে ১২ নম্বরে উঠেছেন সালমান। দুই ধাপ উন্নতিতে ডাকেটের অবস্থান ১৩ নম্বরে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ তালিকায় উন্নতি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কয়েকজন ক্রিকেটারের। ব্যাটারদের মধ্যে দুই ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠেছেন দলটির অধিনায়ক শাই হোপ।
তার সতীর্থ শেরফেন রাদারফোর্ড এগিয়েছেন ছয় ধাপ। এখন ১৮ নম্বরে রয়েছেন তিনি। বোলারদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে গুদাকেশ মোতির। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি এই স্পিনার ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বাংলাদেশের জন্য এই র্যাঙ্কিং হালনাগাদে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি তাসকিন ও শরীফুলের উন্নতি। তবে দলীয়ভাবে বড় ব্যবধানে হারের পরও ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

