ভারতীয় শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাই জনপ্রিয়তার জোরে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখছেন। কেউ সংসদ সদস্য, কেউ বা দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় মুখ। তবে দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে সফল ক্যারিয়ার গড়া অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এখনো সেই পথ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। কেন রাজনীতিতে আসেননি—সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নেরই খোলামেলা উত্তর দিয়েছেন তিনি।
বর্তমান সময়ে শোবিজ জগতের তারকাদের রাজনৈতিক ময়দানে নাম লেখানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। ওপার বাংলার জনপ্রিয় তারকা দেব থেকে শুরু করে কোয়েল মল্লিক—একাধিক পরিচিত মুখ এখন সক্রিয় রাজনীতির মাঠে। তবে ইন্ডাস্ট্রির হাই-প্রোফাইল তারকা হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে সবসময় এই আঙিনা থেকে দূরে রেখেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
টলিউডের অনেক শিল্পী যখন সিনেমা এবং রাজনীতির ময়দান একসঙ্গে সামলাচ্ছেন, তখন ঋতুপর্ণা কেন ব্যতিক্রম—এ প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী।
রাজনীতিতে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে ঋতুপর্ণা স্পষ্ট করে জানান, রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচ তিনি একেবারেই বোঝেন না।
তিনি জানান, ‘আমি রাজনৈতিক ব্যাপারটা কিছুই বুঝি না। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বা ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্সও আমি বুঝি না। যার ফলে আমাকে বারবার হোঁচট খেতে হয়। যে বিষয়টি নিয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই, সেখানে আমি কাজ করতে চাই না।’
রাজনীতির চেয়ে নিজের অভিনয় জীবনকে সমৃদ্ধ করতেই বেশি আগ্রহী এই তারকা। ঋতুপর্ণা আরও বলেন, ‘আমি একজন শিল্পী। আমি সবসময় আমার শৈল্পিক সত্তাকে প্রাধান্য দিতে চাই এবং আমার শিল্পী জীবনকে আরও উন্নত করতে চাই। শিল্পী হিসেবে যদি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, সেটাই হবে আমার আসল সার্থকতা।’
অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শকের কাছে থাকতে চান বলে জানান এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তার মতে, শিল্পীর কাজই হলো মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া—আর সেই পথেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

