প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম কর্মদিবস। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মো. তারেক, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, নিয়ম অনুযায়ী কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী একটি বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর অফিসের দিকে যাওয়ার সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর দিকে তার দৃষ্টি পড়ে।
তাদের মধ্যে কেউ অফিস সহকারী, কেউ মালি, কেউ ড্রাইভার। একসময় তারা তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর সময়কার কর্মচারী ছিলেন। নিরাপত্তা ও প্রটোকলের কারণে তারা কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মনে মনে ভাবছিলেন—এত বছর পর প্রধানমন্ত্রী কি তাদের চিনতে পারবেন?
ঠিক সেই মুহূর্তেই দূর থেকে ভেসে আসে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ, “তুই নূর না?”
এক নিমিষেই আনুষ্ঠানিকতার আবহ ভেঙে যায়। নূরুল আমিনসহ অন্যরা এগিয়ে আসেন। চোখে আনন্দ, মুখে বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি যে তাদের ভুলে যাননি, তা যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেই মুহূর্তে।
রুমন জানান, নূরুল আমিন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ড্রাইভার। একসময় তিনি অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ব্যবধানেও তার নাম ও মুখ মনে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “ক্ষমতার দূরত্ব পেরিয়ে স্মৃতির এই টানই হয়তো মানুষের প্রতি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
তিনি আরও বলেন, বহু বছর পর পুরোনো কর্মচারীদের চিনে নেওয়ার এই ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও তিনি তার প্রথম কর্মদিবসেই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

