ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থাসৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নিতে হবে, কবেল তবেই তেহরানের সঙ্গে তারা চুক্তি করতে পারবে। অন্যথায় চুক্তি সম্ভব হবে না।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান আজিজি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আরও জানান, এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল ইরান আলোচনায় এগোবে।
আজিজির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অনুরোধ জানায়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় যেতে বাধ্য হয়েছে, যা তার মতে যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের “স্পষ্ট বিজয়ের” প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের নীতি “অবিশ্বাস”-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি আস্থা-সৃষ্টিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজিজির উল্লেখ করা শর্তগুলো হলো:
১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে লেবাননে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।
২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
৩. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া।
৪. তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা।
ও ৫. ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা।
তিনি বলেন, “এই পাঁচটি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আমরা ৩০ ও ৬০ দিনের সময়সীমাভিত্তিক আলোচনায় প্রবেশ করবো। এরপর নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য বাকি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যথায় এই চুক্তি হবে না।”
তার এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগোচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা মূলত সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ করার বিষয়কে কেন্দ্র করে হচ্ছে। তিনি জানান, পারমাণবিক ইস্যু বা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে না।
আজিজি আরও দাবি করেন, ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই। তার মতে, ৪০ দিনের যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিজয় অর্জনে ব্যর্থ।
তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় কি না। এমনকি চুক্তি হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব শেষ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব “মৌলিক ও অস্তিত্বগত” প্রকৃতির।
সাক্ষাৎকারের অন্য অংশে তিনি জানান, গত দুই দিনে ইরানের আকাশসীমায় “শত্রুপক্ষের ড্রোন” দেখা গেছে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে “কঠোর ব্যবস্থা” নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি ও শক্তির প্রমাণ এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জবাব “ধ্বংসাত্মক, কঠোর ও অনুতাপজনক” হবে।

