ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে মাঝে মধ্যেই জন্ম নেয় রূপকথার গল্প। এবার সেই গল্পের নতুন নায়ক আফ্রিকার ছোট্ট দেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে দলটি, আর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী স্পেনের বিপক্ষে পাওয়া এই ড্রকে ফুটবল বিশ্বের সাম্প্রতিক সময়ের বড় চমকগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ সামলে কেপ ভার্দেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেন ভোজিনিয়া। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে নিশ্চিত পরাজয় এড়িয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচজুড়ে স্পেনের আক্রমণভাগ ছিল আক্রমণাত্মক। তবে অভিজ্ঞ ভোজিনিয়া যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পোস্টের নিচে। একাধিক দুর্দান্ত সেভে প্রতিপক্ষের হতাশা বাড়ান তিনি। অসামান্য এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
তবে শেষ বাঁশি বাজার পর দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। ঐতিহাসিক ফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরলেও দীর্ঘ সময় ধরে চোখের জল থামাতে পারেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের আবেগের কারণ ব্যাখ্যা করেন ভোজিনিয়া। তিনি জানান, শৈশবে দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় এই মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য তারা আজ আর বেঁচে নেই। অন্যদিকে ভিসা জটিলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা-ও গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
ব্যক্তিগত বেদনা আর দেশের জন্য গর্ব—এই দুই অনুভূতির মিশ্রণই তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে বলে জানান কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার গল্প ইতোমধ্যেই ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাবেক ফুটবলাররাও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন তাকে।
স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে অর্জিত এই ড্র শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে গৌরবময় এক অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের উজ্জ্বলতম মুখ হয়ে উঠেছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার চোখের জল যেন এক দেশের স্বপ্নপূরণের প্রতিচ্ছবি।

