একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এরপর আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ইসলামনগর এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাকিবুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার প্রভাবের কারণে এলাকায় মাদক ব্যবসা বিস্তারের পাশাপাশি তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুস সোবহান বলেন, রাকিবুল একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের পদ পান। তার অভিযোগ, বর্তমানে রাকিবুল স্থানীয় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এদিকে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে রাকিবুল বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে স্থানীয় একাধিক সূত্রের কাছ থেকে।
এ বিষয়ে মাহফুজ ইকবাল বলেন, “সে আমার ছোট ভাই। তবে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় পক্ষের সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকার কথা জানতে পেরেছি। মাদক ব্যবসায় সে ছাত্রদলের কমিটি পাওয়ার পরে যদি জড়িয়ে যায়, সে তথ্য আমার জানা নেই।”
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, বিএনপির এক নেতার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন রাকিবুল। চাঁদা না দেওয়ায় ওই নেতাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রাকিবুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমার নামে কোনো মামলা নেই।”
রাকিবুলের এই বক্তব্যের বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।”
এদিকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র হত্যায় রাকিবুল সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। আশুলিয়া থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলার আসমি রাকিবুল।
একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের পর কীভাবে তিনি ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো দলীয়ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাকিবুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

