ঢালিউডের গ্ল্যামারাস জগতে একজন নায়িকার হাসির আড়ালে কতটা কঠোর প্রস্তুতি আর আত্মত্যাগ লুকিয়ে থাকে, তা খুব কম মানুষই জানেন। পর্দায় যাদের আমরা নিখুঁত রূপে দেখি, তাদের সেই ঝলমলে উপস্থিতির পেছনে থাকে দীর্ঘ অনুশীলন, ধৈর্য আর নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়ে তোলার গল্প। ঠিক তেমনই এক অজানা অধ্যায়ের কথা এবার সামনে আনলেন ঢালিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী পূর্ণিমা।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের মুগ্ধতায় দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী সম্প্রতি এক পডকাস্টে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করেন। সেখানে তিনি জানান, নায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও প্রথমদিকে নিজেকে চিত্রনায়িকা ভাবতেই পারতেন না। বরং সিনেমায় কাজ শুরুর আগে তাকে পার হতে হয়েছিল কঠোর গ্রুমিংয়ের ধাপ।
সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমাকে যখন নায়িকা হিসেবে সিলেক্ট করা হলো, তখনও না আমি টের পাচ্ছিলাম না যে আমি নায়িকা। চিত্রনায়িকা যেটা বলে। গ্রুমিং পার্টটা ছিল সিনেমা শুটিং হওয়ার ঠিক ২০ দিন আগে থেকে। সকাল ৬ টায় উঠতাম। সূর্য যখন উঠবে তখন সানের দিকে ডিরেক্ট তাকিয়ে থাকতে বলেছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।’
কিন্তু কেন ভোরবেলায় সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো কঠিন অনুশীলন করতে হতো? এর পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। পূর্ণিমার ভাষায়, ‘যে যতক্ষণ পারো তাকিয়ে থাকো কারণ হচ্ছে সিনেমা যখন আমরা ডে লাইটে কাজ করি আমাদের চোখে অনেকগুলো বোর্ড দেওয়া হয়। ওই বোর্ডের আলোটা যাতে নিতে পারি আমার চোখ যাতে ছোট না হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সো ওইটা যখন আরও ডাবল দেয় তখন হচ্ছে চেহারাটা ব্রাইট হয়। রিফ্লেকশন বোর্ডে কিন্তু চোখ ছোট হয়ে আসে নরমাল কোনো মানুষ তাকাতে পারবে না। তো ওটা যাতে আমি নিতে পারি এবং আমার চোখ যাতে ছোট ছোট না হয়ে আসে এবং ডায়ালগ বলতে গিয়ে যাতে চোখে পানি না চলে আসে, তো এভাবে করে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থেকে প্র্যাকটিস করতাম।’

