ব্রাজিলের প্রাণকেন্দ্র রিও ডি জেনেইরো–এর বিখ্যাত কোপাকাবানা সৈকতে পপতারকা শাকিরার বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্টকে ঘিরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আসন্ন ‘তোদো মুন্দো নো রিও’ কনসার্টের বিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলাকালে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক নির্মাণশ্রমিক। রোববার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কনসার্টের প্রস্তুতি নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।
আয়োজক সংস্থা এবং স্থানীয় দমকল বাহিনী পৃথকভাবে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঞ্চের ভারী কাঠামো স্থাপনের সময় হঠাৎ একটি যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে থাকা জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে দমকল বাহিনীর অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ৫১ বছর বয়সী আন্তোনিও মার্কোস ফেরেইরা দস সান্তোস জানান, মুহূর্তের মধ্যেই সৈকত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আচমকা সবাই ছোটাছুটি শুরু করলে দেখা যায় একটি বিশাল ধাতব কাঠামো ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। ধসে পড়া অংশের নিচে একজন চাপা পড়লে আশপাশে থাকা কর্মীরা দ্রুত তাকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন।
রাজ্য দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বস্তু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি লিফটিং সিস্টেমের নিচে চাপা পড়ে শ্রমিকটির শরীরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মিগুয়েল কৌতো পৌর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিও ডি জেনেইরো–এর মেয়রের ঘোষণার পর এবারের বার্ষিক এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে শাকিরার নাম নিশ্চিত করা হয়েছিল। কোপাকাবানা সৈকতে এর আগেও বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের কনসার্টে লাখো দর্শকের সমাগম হয়েছে, ফলে এবারের আয়োজন নিয়েও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পরিবার, সহকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এই দুর্ঘটনার কারণে নির্ধারিত কনসার্টের সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ইতোমধ্যে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, মঞ্চ নির্মাণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের অবহেলা ঘটেছিল কি না। এই ঘটনার পর পুরো শহরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।

