ঢালিউড মানেই যেখানে সৌন্দর্য, মাধুর্য আর প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব একসঙ্গে মিশে যায়—সেখানে অনায়াসেই উচ্চারিত হয় দিলারা হানিফ পূর্ণিমা-র নাম। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, কিন্তু তার আবেদন যেন একই রকম সতেজ। পর্দার বাইরে তিনি কেমন—তা জানার আগ্রহ ভক্তদের বরাবরই তুঙ্গে। আর সেই আগ্রহ আরও উসকে দিলেন তিনি সম্প্রতি এক খোলামেলা আড্ডায়।
সঞ্চালক সিমরা খান-এর উপস্থাপনায় একটি বিশেষ পডকাস্টে অংশ নিয়ে পূর্ণিমা শেয়ার করেছেন নিজের ব্যক্তিগত জীবনের হাসি-ঠাট্টা, অভ্যাস আর কিছু মজার অভিজ্ঞতা, যা ভক্তদের কাছে এনে দিয়েছে তার এক ভিন্ন রূপ।
সকালের শুরুটা নিয়েই ছিল মজার এক প্রশ্ন—ঘুম থেকে উঠে আয়নায় নিজেকে দেখে কী বলেন? জবাবে হাসতে হাসতে পূর্ণিমা বলেন, ‘এই যে এখন ঘুম থেকে উঠলাম, দেখলাম যে এত সুন্দর কেন? ভাল্লাগছেনা আমার! আসলে এই টাইপ সবারই হওয়া উচিত।’ তার এই আত্মবিশ্বাসী ও রসিক উত্তর মুহূর্তেই মন জয় করে নেয় দর্শকদের।
অনেকে ভাবেন, এই গ্ল্যামার ধরে রাখতে তিনি হয়তো কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। তবে সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে অভিনেত্রী জানান, নিজেকে ঠিক রাখার জন্য আলাদা করে বিশেষ কিছুই করেন না তিনি।
আড্ডার পুরো সময়জুড়ে নিজের স্বভাবসুলভ সেন্স অফ হিউমার দিয়ে মাতিয়ে রাখেন পূর্ণিমা। মজার ছলে বলেন, ‘ডক্টর বলেছে তুমি তাড়াতাড়ি জয়েন করো, আমাদের পেইন কিলার লাগবে না। আমি ওয়ার্ডে গিয়ে সবার পেইন কমিয়ে দিয়ে আসবো।’
তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ ভক্তদের অদ্ভুত কিছু আচরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একবার কেউ অনুমতি ছাড়াই তাকে চিমটি কেটেছিল! অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে সেই ভক্তের উত্তর ছিল—তিনি নাকি দেখতে চেয়েছিলেন, পূর্ণিমা সত্যিই মানুষ নাকি পুতুলের মতো নিখুঁত!
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতেও ভোলেননি এই তারকা। তিনি বলেন, বাসায় অতিথি এলেই তার মা হারমোনিয়াম বের করে তাকে গান গাইতে বলতেন। ফলে অতিথিদের ‘জোর করে’ পাঁচটি গান শোনাতে হতো—যা নিয়ে এখনও হাস্যরস করেন তিনি নিজেই।
সব মিলিয়ে, পর্দার গ্ল্যামারাস পূর্ণিমার পাশাপাশি এই আড্ডায় উঠে এসেছে এক প্রাণখোলা, রসিক আর একেবারে সহজ-সরল মানুষ পূর্ণিমা—যিনি নিজের হাসি আর গল্প দিয়েই জয় করে নেন সবার মন।

