বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রভাবশালী পরাশক্তি—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—এর সম্পর্কের ক্ষেত্রে বইছে পরিবর্তনের নতুন হাওয়া। বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল–এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর মধ্যে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও আলোচনা শেষে দুই দেশের সম্পর্কে সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাগত জানান শি জিনপিং। এরপর অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই নেতা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে “গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক” গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনার পর এটি দুই দেশের সম্পর্কে এক বড় ধরনের “রিসেট” বা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করছে।

নতুন সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরে শি জিনপিং বলেন, এখন থেকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিচালিত হবে “সহযোগিতা” এবং “পরিমিত প্রতিযোগিতা”-র ভিত্তিতে, যেখানে পারস্পরিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কৌশলগত অবস্থান আগামী তিন বছর এবং তারও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ পেরিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সমঝোতা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version