এক সময় ব্যবধান ছিল মাত্র চার পয়েন্ট। কিন্তু এক রাতেই শিরোপার দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মায়োর্কার মাঠে নাটকীয় হারের পর যখন হতাশায় ডুবছে মাদ্রিদ শিবির, তখন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় বার্সেলোনা। ফলে লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে এখন রিয়ালের সামনে কঠিন সমীকরণ।
মায়োর্কার বিপক্ষে ২-১ গোলের হার শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া অবশ্য দায় চাপাননি খেলোয়াড়দের ওপর। বরং পরাজয়ের পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি বলেছেন, এই হার সম্পূর্ণ আমার।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল স্বাগতিক মায়োর্কা। প্রথমার্ধে মানু মোরলানেসের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।
শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে ৮৮তম মিনিটে সমতা ফেরান এদার মিলিতাও। সেই গোলের পর মনে হচ্ছিল, অন্তত এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে রিয়াল। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ভেদাত মুরিকি আবারও মায়োর্কাকে এগিয়ে নেন। তার সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া বলেন, “এই হার আমার, পুরোপুরি আমার। সিদ্ধান্তগুলো আমিই নিই। খেলোয়াড়দের কাছে আমার একটাই চাওয়া—তারা যেন এখন থেকেই মঙ্গলবারের ম্যাচ নিয়ে ভাবা শুরু করে। তারা যখন ড্রেসিংরুম ছাড়বে, তাদের মাথায় যেন শুধু বায়ার্ন মিউনিখের কথাই থাকে।”
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মায়োর্কার মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্যে ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করার সাফল্য এবং লিগে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের ডার্বি জয়।
কিন্তু মায়োর্কার বিপক্ষে এই হার তাদের শিরোপা-স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। বার্সেলোনা নিজেদের ম্যাচ জেতায় দুই দলের ব্যবধান এখন দাঁড়িয়েছে সাত পয়েন্টে। ফলে বাকি আট ম্যাচে আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই রিয়ালের সামনে।
আরবেলোয়াও তা স্বীকার করেছেন অকপটে।
“ম্যাচ শুরুর আগে যে অবস্থায় ছিলাম, এখন পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও কঠিন। আমাদের সামনে এখনও আটটি ম্যাচ আছে। পয়েন্ট টেবিল যাই বলুক, আমাদের লক্ষ্য একটাই—বাকি সব ম্যাচ জেতা। আজ আমরা যেমন খেলেছি, সামনে আমাদের তার চেয়েও ভালো খেলতে হবে।”

