মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮.৭৭ ডলারে পৌঁছেছে।

২০২০ সালের করোনা মহামারির পর একদিনের ব্যবধানে তেলের দাম বাড়ার অভিজ্ঞতার পর এটিই নতুন রেকর্ড। গত সপ্তাহে তেলের দাম ২৮ শতাংশ বাড়ার পর এই নতুন লাফ দেখা গেল।

সোমবার (৯ মার্চ) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মূলত ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান যুদ্ধই তেলের বাজারে এই অস্থিরতার প্রধান কারণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার মুখে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেপি মর্গানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। আর এই তেল-গ্যাসের বড় অংশই সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে।”

তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা আবার কমতে পারে। তবে কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমাধান না হলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে।

কাসম্যানের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।আক্স

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version