বিশ্বকাপের আগে যেন নতুন ছন্দ খুঁজে পেয়েছে ব্রাজিল। একসময় সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়া সেলেসাও এখন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। পানামার বিপক্ষে ৬-২ গোলের দাপুটে জয় শুধু স্কোরলাইনেই নয়, দলের মানসিকতা ও পারফরম্যান্সেও এনে দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা। সেই জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দীর্ঘদিন খুঁড়িয়ে চলা ব্রাজিল দল যেন হঠাৎ করেই ছুটতে শুরু করেছে। সমর্থকদের মনে আশার আলো জ্বলে উঠেছে, আর মাঠের ভেতর খেলোয়াড়রা ফিরে পেয়েছেন হারানো আত্মবিশ্বাস। বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া এখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে। বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করছেন তিনি।
ম্যাচের পর স্পোর্ত টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাফিনিয়া বলেন, ‘আজ আমার যে মানসিকতা, তাতে আমি নিজেকে মানসিক ও টেকনিক্যাল দিক থেকে অনেক বেশি প্রস্তুত মনে করছি। এই জার্সির দায়িত্ব ও চাপ নেওয়ার জন্য আমি পুরোপুরি তৈরি।’
নিজে গোল না পেলেও সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ রাফিনিয়া। ভিনিসিয়ুসের গোল দিয়ে উৎসব শুরুর পর কাসেমিরো, রায়ান, পাকেতা, থিয়াগো এবং দানিলো গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে বদলি খেলোয়াড়দের গোল পাওয়ায় স্পষ্ট হয়েছে, ব্রাজিল দলে একাদশে জায়গা করে নেওয়ার প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।
তবে গোলের চেয়ে রক্ষণভাগ নিয়েই বেশি ভাবছেন রাফিনিয়া। তার মতে, আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাব নেই, প্রয়োজন কেবল দলগত সংহতি ও রক্ষণে শৃঙ্খলা।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা রক্ষণভাগ গুছিয়ে নিতে পারি এবং সবাই মিলে একসঙ্গে সামলাতে পারি, তাহলে যেকোনো দলের পক্ষে আমাদের হারানো কঠিন হয়ে যাবে। এই দলে বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ডরা আছেন। ঐক্যবদ্ধভাবে খেললে এবং একে অপরকে সাহায্য করলে আমাদের হারানো খুবই কঠিন।’
ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি ধীরে ধীরে নতুন রূপ পাচ্ছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। রবিবার মারাকানায় ৭৩ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে পাওয়া বড় জয়টিও ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ মিশনের পথে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
রাফিনিয়ার কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে সেই আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘দেশের মাঠে সমর্থকদের সামনে প্রস্তুতির শেষ ধাপটা শেষ করতে পারাটা দারুণ অনুভূতি। গ্রানজা কোমারিতে পৌঁছানোর পর থেকেই মনে হচ্ছিল আমরা আসলে বিশ্বকাপের মধ্যেই আছি। চারদিকে বিশ্বকাপের আবহ।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে তাই আত্মবিশ্বাস, ঐক্য আর বড় জয়ের রসদ নিয়েই নতুন স্বপ্ন বুনছে ব্রাজিল। আর সেই স্বপ্নের অন্যতম মুখ রাফিনিয়া বিশ্বাস করেন, দল হিসেবে একসঙ্গে খেলতে পারলে সেলেসাওকে থামানো সহজ হবে না।


