বাংলাদেশে করপোরেট করের হার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। করের হার কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে না আনলে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইসিবির চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মিলনায়তনে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত ‘এবারের বাজেট বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের করপোরেট করের হার ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুরের চেয়েও বেশি। তাই এসব প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে করহার সামঞ্জস্যপূর্ণ করা না গেলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে করনীতি আরও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। তিনি বলেন, অতীতে টানেলের শেষে কোনো আলোর দেখা পাওয়া যেত না, এখন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। এই গতি ধরে রাখতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। সে জন্য করপোরেট করের হারকে আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

আবু আহমেদ বলেন, নির্বাচিত সরকার উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় বাজেট দিতেই পারে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারকে সময় দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে উল্লেখ করে আইসিবি চেয়ারম্যান বলেন, এই সফর উন্নয়ন সহায়তা, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আইসিবি চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে সরকারকে সন্তুষ্ট না করে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব ছিল। সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে দলীয় প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্নীতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল। পদ্মা রেল সেতু, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ একাধিক মেগা প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিমূল্যায়িত মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের আড়ালে লুণ্ঠনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই অতিমূল্যায়নের কারণে বেড়ে গিয়েছিল। তাই অপচয় রোধে প্রকল্পগুলো যৌক্তিকীকরণ জরুরি বলে মত দেন তিনি। এদিকে, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিকে হারিয়ে ঢাকা কলেজ বিজয়ী হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version