এপ্রিলেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, যা প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন। যদিও এখনো পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়নি, সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালায় পরীক্ষার কাঠামো, নিয়মকানুন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে একটি সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে পাঁচটি বিষয়ে—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অন্যদিকে প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই দুটি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের (৫০+৫০) পরীক্ষা নেওয়া হবে একই সময়সীমার মধ্যে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বৃত্তি অর্জনের জন্য প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

বৃত্তির ধরন অনুযায়ী, দুটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে—ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ বৃত্তি। উভয় ক্ষেত্রেই সমতা বজায় রাখতে ৫০ শতাংশ ছাত্র ও ৫০ শতাংশ ছাত্রীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

১. পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না;

২. পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না;

৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না;

৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে;

৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না;

৬. খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করতে হবে এবং তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে;

৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না;

৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না;

৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে;

১০. এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালে আচরণের নির্দেশিকায়—

—পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না;

—প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না;

—প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না;

—উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না;

—উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন ও বিনষ্ট করা যাবে না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version