শুক্রবার, মে ২২

​জাতীয় পতাকার প্রতি অবিচল আনুগত্য, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছেন ২০২৬ ব্যাচের ৪৪১ জন নবীন নাবিক।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর সংলগ্ন বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও মনোমুগ্ধকর শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাঁদের কঠোর বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণের সফল সমাপ্তি ঘটে।


​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং নবীন নাবিকদের অভিবাদন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি প্রশিক্ষণে অনন্য ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী সফল নাবিকদের মাঝে মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

​এবারের প্রশিক্ষণে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন মো. শাহরিয়ার টুটুল। পেশাগত ও সামগ্রিক মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘কমখুল পদক’ পান মো. সামিউল ইসলাম শাকিল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন মো. কাদের মিয়া। এ ছাড়া নারী নাবিকদের মধ্যে সেরা চৌকশ পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ অর্জন করেন মোছা. মারিয়া আক্তার।

​​প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

​নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে সম্প্রতি নৌবহরে অত্যাধুনিক দুটি হেলিকপ্টার, দুটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি), চারটি মাল্টি-মিশন ইন্টারসেপ্টর বোট এবং পাঁচটি পেট্রোল বোট যুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিজস্ব ডাটা সেন্টার ও BNNET স্থাপনসহ হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে জাহাজ ও আধুনিক ড্রোন সিস্টেম সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নৌবাহিনী পরিচালিত দেশের নিজস্ব শিপইয়ার্ডগুলো এখন অত্যন্ত সফলভাবে যুদ্ধজাহাজ, এলসিটি ও অন্যান্য সহায়ক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্বনির্ভরতার প্রতীক।

​​নৌপ্রধান ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্থানীয় প্রশাসনকে নানা দূর্যোগে সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই বা স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় ও দুর্গম চরাঞ্চলে নৌ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

​নবীন নাবিকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “সততা, কঠোর শৃঙ্খলা, উর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও দেশপ্রেমের মূল আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। একই সাথে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সাথে সুদৃঢ় সমন্বয় রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জলসীমা রক্ষায় সর্বদা সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে।

​মনোমুগ্ধকর ও প্রাণবন্ত এই প্যারেডের শেষভাগে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নবীন নাবিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল জীবনের সূচনা করেন।

​অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের গর্বিত অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে এই দৃষ্টিনন্দন সমাপনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version