যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া রায়ে আদালত বলেন, ট্রাম্প ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, কিন্তু ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
৯ সদস্যের বেঞ্চে ছয় বিচারপতি ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দেন। তিন বিচারপতি শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আদালত গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল ঘোষণা করেন।
রায়ের পর হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘জাতির জন্য অসম্মান’ বলে উল্লেখ করেন এবং কয়েকজন বিচারপতির সমালোচনা করে বলেন, তাঁদের কারণে তিনি ‘লজ্জা বোধ করছেন’। তাঁর অভিযোগ, বিচারপতিরা ‘বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা’ করেছেন।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি অন্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি বলেন, শুল্ককে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে, সেগুলোর অনেকই বহাল থাকবে। বিশেষভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করে তিনি চুক্তি বহাল থাকার ইঙ্গিত দেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার নজিরবিহীন ব্যবহার করে প্রায় সব প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। তাঁর ঘোষিত পাল্টা শুল্ক বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেয়। সে সময় দিনটিকে তিনি আমেরিকার ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পাল্টা শুল্ক বড় প্রভাব ফেলে। প্রথমে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা ৩৫ শতাংশে নামানো হয় এবং গত বছরের আগস্টে আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পর তা আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশ হয়।
পাল্টা শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। ফলে পাল্টা শুল্কসহ মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছিল ৩৪ শতাংশে। এখন আদালতের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল এবং নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট শুল্ক কত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প বলেন, শুল্ক আরোপের বিকল্প আরও আইনি পথ রয়েছে। তিনি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন ও ১৯৬২ সালের বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের মতো আইনের কথা উল্লেখ করেন, যেগুলোর মাধ্যমে তিনি নতুন পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এদিকে মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি ডাকো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আদালতের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন, নতুন করে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজলে এই হ্রাস সাময়িক হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

