ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকনের সই রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে বন্দর কর্মচারীদের গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি দাবি পূরণ না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করেছিলেন বন্দর কর্মচারীরা। তবে বিকেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এই টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সরকারের এমন আশ্বাসে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কর্মচারীদের ওপর নেওয়া বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে ছিল সংগ্রাম পরিষদ। পরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ধর্মঘট স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে আবারও সতর্ক করা হয়েছে—আন্দোলনরত কর্মচারীদের গ্রেফতার, হয়রানিমূলক বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচটি প্রধান সমস্যার সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version