রানি মুখার্জি—বলিউডের সেই নাম, যার উপস্থিতি মানেই আবেগ, শক্তিশালী অভিনয় আর স্মরণীয় চরিত্রের এক অনন্য মিশ্রণ। প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি যেমন বাণিজ্যিক সাফল্যের স্বাদ পেয়েছেন, তেমনি উপহার দিয়েছেন সময়কে ছাপিয়ে যাওয়া বহু কালজয়ী সিনেমা। তবে নতুন ছবি ‘মর্দানি ৩’ মুক্তির অপেক্ষার মধ্যে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অকপটে স্বীকার করলেন, তার ক্যারিয়ারের কিছু কাজ এমন এক জাদু তৈরি করেছিল, যা আর কোনোদিন পুনরায় করা সম্ভব নয়।
সাক্ষাৎকারে রানি মুখার্জির কথায় উঠে আসে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ছবি কুছ কুছ হোতা হ্যায়-এর স্মৃতি। করণ জোহর পরিচালিত এই ছবিতে ‘টিনা’ চরিত্রটি মুক্তির পরপরই দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে রানি বলেন, করণ যখন তাকে প্রথম গল্পটি শোনান, তখনই তিনি ঘরের মধ্যে এক অদ্ভুত জাদু অনুভব করেছিলেন। পরিচালকের আন্তরিকতা আর গল্পের আবেগময় বুনন তাকে তৎক্ষণাৎ মুগ্ধ করেছিল।
রানির মতে, তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল সাথিয়া। এই ছবিতে তার স্বাধীনচেতা তরুণীর চরিত্রটি অনেক নারীর কাছে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, স্বপ্ন এবং পেশার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই—সবই সেখানে খুব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল।
অন্যদিকে হাম তুম ছবির ‘রিয়া’ চরিত্রটি বলিউডে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। রানি মনে করেন, রিয়ার বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ছবির নায়ক সইফ আলি খান-কে বারবার চ্যালেঞ্জ জানাত। সেই সময়ের বাণিজ্যিক ছবিতে এমন সমানতালে দাঁড়িয়ে থাকা নারী চরিত্র খুব কমই দেখা যেত।
তবে এতসব ছবির মাঝেও ব্ল্যাক রানির কাছে আজও সবচেয়ে বিশেষ। সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত এই ছবিতে ‘মিশেল ম্যাকন্যালি’ চরিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। রানি বলেন, বনশালি যখন তাকে এই চরিত্রের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি যে এত কঠিন একটি চরিত্র তিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।
তার কথায়, “এই ছবিটি শুধু আমার অভিনয় জীবনের একটি মাইলফলক নয়, বরং আমাকে জীবন সম্পর্কে আরও কৃতজ্ঞ হতে শিখিয়েছে। আর সত্যি বলতে, আমি মনে করি না ‘ব্ল্যাক’-এর মতো সেই জাদু আমি আর কখনও নতুন করে তৈরি করতে পারব।”

