জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, করদাতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা, কর ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ভিত্তি সম্প্রসারণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোববার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭ এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর ও শুল্কে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং ব্যবসা সহজ করতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ও সহজ ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীকে জটিল রিটার্ন, অডিট বা হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলায় পড়তে হবে না। অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন নিয়ে নির্ধারিত টার্নওভার কর পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
তিনি জানান, ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া আয়করের ই-টিআইএ-এর মতো তাৎক্ষণিক করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযোজন করা হবে। সাধারণ ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমে যাচাই করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকির তথ্য দিলে ভোক্তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরো বলেন, তামাক খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের আওতার বাইরে থেকে যায়। নতুন প্রযুক্তি চালু হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ভবিষ্যতে একই ব্যবস্থা অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে।
আবদুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানি ও ভ্যাট রিটার্নও সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং নতুন ব্যবস্থায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ, আন্তঃকমিশনারেট কন্টিনিউয়াস বন্ড চালু, অনুমোদিত অর্থনৈতিক অপারেটর (এইও) সুবিধা সহজীকরণ এবং অনুগত প্রতিষ্ঠানের জন্য অডিট শিথিলসহ বিভিন্ন ডিরেগুলেটরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
সূত্র: বাসস



