ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এক মাস অতিক্রম করে আরও জটিল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টায়, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা, হোয়াইট হাউস থেকে এই ভাষণ প্রদান করবেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অবস্থান তুলে ধরতেই এই ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার দিকেও ইঙ্গিত করেন।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ড্রোন হামলা, তেলের ট্যাংকারে আঘাত এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতায় পুরো অঞ্চল এখন অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
সংঘাতের শুরুতেই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেবল মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ঘোষিত ভাষণের দিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা বা সংঘাত নিরসনে নতুন কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসে কি না—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

