শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালিয়ে প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে বড় সাইবার আর্থিক চুরির ঘটনা এটি।

বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হর্ষনা সুরিয়াপেরুমা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া অর্থ ছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে নেওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের টাকা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে অর্থ সরিয়ে নেয়। ঋণে জর্জরিত দেশটির ইতিহাসে হ্যাকারদের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে একবারে এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা এই প্রথম।

এ ঘটনার পর সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হর্ষনা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত এগিয়ে নিতে বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।

কীভাবে হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহৃত ইমেইলভিত্তিক পেমেন্ট নির্দেশনায় কারসাজি করেই অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়ার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত কিস্তির অর্থ না পাওয়ার কথা জানালে শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা বিষয়টি প্রথম টের পান। তখনই জানা যায়, ২৫ লাখ ডলার রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে।

শ্রীলঙ্কার অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো জানিয়েছেন, ভারতের কাছে আরেকটি অর্থ পরিশোধের সময়ও একই ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা হয়েছিল। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় সে যাত্রায় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

কীভাবে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে এই হামলা ঘটানো হলো এবং চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব কি না— তা নিয়ে এখন বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে প্রায় ৪৬০০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে শ্রীলঙ্কা। সেই সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার মধ্যেই এই সাইবার হামলা দেশটির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কলম্বোয় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ম্যাথিউ ডাকওর্থ জানিয়েছেন, ঋণের অর্থ পরিশোধে যে অনিয়ম হয়েছে সে বিষয়ে ক্যানবেরা অবগত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।”

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version