এক দফা সময় বাড়ানোর পর আগামী ৩১ ডিসেম্বর করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার শেষদিন। এ সময়ের মধ্যে করদাতাদের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের খবর জানিয়ে রিটার্ন দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া এবার সবাইকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। করযোগ্য আয় থাকলে টিআইএনধারীদের রিটার্ন দিতে হয়।
এদিকে, সরকার চাইলে রিটার্ন জমার সময় আবারও বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রবিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত আগস্টে সব করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করে এনবিআর।
আর মাত্র ৯ দিনের মতো সময় আছে। এবার যেহেতু অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে, তাই সাপ্তাহিক বা বিশেষ ছুটির দিনেও ঘরে বসেই রিটার্ন দিতে পারবেন। তাই সময় শেষ হওয়ার দু-একদিন আগে রিটার্ন জমায় তাড়াহুড়া করবেন না। এতে নানা ধরনের ঝুঁকি বাড়ে। যেমন-ভুলের ঝুঁকি বাড়ে।
তাড়াহুড়ায় আয়-ব্যয়, কর ছাড় ও উৎসে করের হিসাব মিলতে ভুল হতে পারে। তাই সময় নিয়ে সাবধানে হিসাব-নিকাশ করতে হবে। কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকে যেমন- শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সনদ ও রসিদ ঠিকভাবে যাচাইয়ের সময় পাওয়া যায় না। এখনো সময় আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করে রাখুন।
অনলাইন পোর্টালের চাপ-শেষ দু-তিন দিন কর রিটার্ন জমার সিস্টেমে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, লগইন ও সাবমিটে সমস্যা হয়। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। জরিমানা ও জটিলতা-সময় পেরিয়ে গেলে জরিমানা বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়ায় পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
কর পরিকল্পনার সুযোগ হারান-আগেভাগে জমা দিলে বৈধ করছাড় ও সমন্বয়ের সুবিধা ভালোভাবে হিসাব-নিকাশ করে নেওয়া যায়। সংশোধনে ভোগান্তি-ভুল হলে রিটার্ন সংশোধনে বাড়তি সময় ও দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন পড়ে। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ায় এমন ভুল বেশি হতে পারে। মানসিক চাপ বাড়ে-শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ ও চাপ তৈরি হয়।
অনলাইনে দেবেন যেভাবে ॥ সব করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা দিতে হবে। এ জন্য প্রথমে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন নিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনি আপনার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দিতে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না।
এসব কাগজের তথ্য দিলেই হবে। তবে যেসব কাগজের তথ্য দেবেন, তা সংরক্ষণ করবেন। কারণ, ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কাগজপত্র চাইলে যেন তা দিতে পারেন। অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় ঘরে বসেই কর দিতে পারবেন। যেমন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
যেসব কাগজপত্র লাগে-রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আপনার নানা ধরনের কাগজপত্রের তথ্য লাগবে। তাই অনলাইনে রিটার্ন জমার ফরম পূরণের আগেই এসব কাগজ জোগাড় করে রাখা জরুরি। যেসব কাগজপত্র লাগবে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, পৌরকরের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনী সম্পদের বিক্রয় বা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনী ব্যয়ের আনুষাঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।
বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতে চাইলেও কিছু কাগজপত্রের তথ্য লাগবে। যেমন- জীবনবিমার কিস্তির প্রিমিয়াম রসিদ, ভবিষ্যৎ তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ, ঋণ বা ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, শেয়ারে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ডিপোজিট পেনশন স্কিমে (ডিপিএস) চাঁদার সনদ, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা ও গোষ্ঠী বিমার কিস্তির সনদ, যাকাত তহবিলে দেওয়া চাঁদার সনদ ইত্যাদি। এছাড়া, এ বছর সব করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
তবে প্রথমবারের মতো সব করদাতার জন্য এমন অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করায় অনেক করদাতা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে যারা বয়স্ক করদাতা, তাদের অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার মতো প্রযুক্তিজ্ঞান কম। অনলাইনে ই-রিটার্ন জমায় সহায়তা করার জন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে একটি করে সহায়তা বুথ চালু করা হয়েছে।


