স্ত্রী ও শাশুড়ির অপমান-অপদস্থের কারণে রাজধানীর ডেমরায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মো. সাইদুল ইসলাম (১৯) নামে এক পুলিশ সদস্য গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গত সোমবার দিবাগত রাতে সাইদুলের স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা মো. ছাদেক (৫৭)। আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সাইদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে। তিনি পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ‘সি’ কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বাদী মো. ছাদেক জানান, তিনি ভ্যানগাড়িতে বেকারির পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেক কষ্ট করে উপার্জন ও ঋণের টাকা দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ছেলের আয়ে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা ছিল বাবা-মায়ের।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ৪ মে রুবাইয়ার সঙ্গে সাইদুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২২ মে পরীক্ষা দিতে রুবাইয়া সাইদুলের বাড়ি থেকে তার মাদ্রাসায় যান। ওই দিন মাদ্রাসা থেকে বাবার সঙ্গে নিজ বাড়িতে চলে যান রুবাইয়া। পরবর্তীতে ২৫ মে নিজ বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে এসে রুবাইয়া ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করে পুনরায় বাবার বাড়িতে চলে যান।

পরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ফোন দিলে তারা মোবাইল ফোনে সাইদুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তাকে গরিব ও ছোটলোক বলাসহ নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে এরপর ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাইদুল আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।

মৃতের পরিবারের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, রাজাখালী সাকিনস্থ পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ২০ তলা ভবনের নবম তলার ৯০৯ নম্বর কক্ষে সাইদুল ইসলাম সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত বিষয় স্পষ্ট হবে।

এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সাইদুলের স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। এছাড়া ফেসবুক পোস্টে তিনি আবেগঘন কিছু বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এর আগে এ বিষয়ে নিহতের বাবা ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version