ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনার পর বিদায় নিল পবিত্র রমজান মাস। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও সংঘাত ভুলে সাম্য, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো খুশির ঈদ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আজ শনিবার (২১ মার্চ) দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

জাতীয় পর্যায়ের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। এখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মুসল্লিরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও খোলা ময়দানে একাধিক জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে, যাতে নগরবাসী সহজে অংশ নিতে পারেন।

দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও প্রধান মসজিদগুলোকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কোথাও সকাল ৮টা, কোথাও সাড়ে ৮টা কিংবা ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত। সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ।

জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। তাঁদের সঙ্গে বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।

ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ওজুখানা ও মেডিকেল টিমের সুবিধাও থাকবে।

রাজধানীতে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হবে। ঈদগাহমুখী প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশপথে ব্যারিকেড থাকবে এবং সেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে।

পুলিশের টহল জোরদার থাকবে এবং নির্দিষ্ট গেট দিয়েই মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক গেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ শাখার সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এসব জামাত সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যসহ সর্বসাধারণ অংশ নিতে পারবেন।

ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা ও আনন্দের সমন্বয়ে দেশজুড়ে প্রস্তুত হয়েছে এক শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ঈদ উদযাপনের পরিবেশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version