বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় যখন ছেলের অতিমানবীয় বীরত্ব, দূর দ্বীপরাষ্ট্রে বসে তখন মায়ের চোখে আনন্দ আর আক্ষেপের অশ্রুধারা। অবশেষে ঘুচতে চলেছে সেই আক্ষেপের অবসান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ছেলের ঐতিহাসিক লড়াই এবার আর ঘরের টেলিভিশনে নয়, সরাসরি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করবেন কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা। ফুটবলবিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া সেই আবেগঘন অধ্যায়ের পর অবশেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
গত বুধবার কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরেন আনা কান্দিদা। দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে বুকে জড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে বিদায় নেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বিদায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নাড়া দিয়েছে বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনকে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন- ‘এটাই তো ফুটবলের আসল সৌন্দর্য।’
চলতি বিশ্বকাপে ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে পুচকে দল কেপ ভার্দে। বিশেষ করে পরাশক্তি স্পেনের বিপক্ষে দলটির গোলরক্ষক ভোজিনহা যা করে দেখিয়েছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। একের পর এক অতিমানবীয় সেভে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের রুখে দিয়ে দলকে এনে দিয়েছেন এক ঐতিহাসিক ড্র।
ম্যাচ শেষে যখন চারদিকে ভোজিনহা-বন্দনা, তখনই সংবাদ সম্মেলনে এক ভিন্ন রূপকথার জন্ম দেন এই গোলরক্ষক। সংবাদকর্মীদের সামনে নিজের বুকের ভেতর চেপে রাখা কষ্টটা উগরে দিয়ে ভোজিনহা জানান, মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিহাস গড়লেও গ্যালারিতে মায়ের অনুপস্থিতি তাকে কতটা ক্ষতবিক্ষত করছে। আবেগতাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে আমার খেলা দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা আর বিমানের টিকিটসহ ভ্রমণের বিশাল খরচ জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। শুধু অর্থসংকটের কারণেই মা আসতে পারেননি, ঘরে বসেই তাকে খেলা দেখতে হয়েছে।’
ভোজিনহার সংবাদ সম্মেলনের সেই কান্নাভেজা ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন-বিশ্বকাপ মানেই শুধু গোল, জয় আর ট্রফির হিসাব-নিকাশ নয়; বিশ্বকাপ মানে মানুষের জীবনসংগ্রাম, ত্যাগ আর নাড়ির টানের এক পরম আখ্যান।
অবশেষে কোটি ফুটবলপ্রেমীর সেই ভালোবাসা আর শুভকামনাকে সঙ্গী করেই ছেলের পাশে দাঁড়াতে আটলান্টিক পাড়ি দিচ্ছেন আনা কান্দিদা। খুব শীঘ্রই গ্যালারি থেকে ছেলের জন্য গলা ফাটাতে দেখা যাবে এই মহীয়সী মাকে।


