জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানান দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
গতকাল জামায়াতের মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ, পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং জামায়াতের যুক্তরাষ্ট্র শাখার মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রস্তাব করা হয়েছে যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যদি যুক্তরাষ্ট্রের শতভাগ তুলা অথবা দেশটিতে উৎপাদিত ‘ম্যানমেড ফাইবার’ ব্যবহার করা হয়, তবে সেসব পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে বিশেষ শুল্কসুবিধা দেওয়া হবে।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান একে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘এটি একদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়াবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও উপকৃত হবে।’
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হয়ে জামায়াত সরকার গঠন করলে এই বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেসরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ পেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।’
বৈঠকের শেষ পর্বে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারি আরও সুদৃঢ় হবে।


