মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান। মাত্র ১৭ বছর ২ দিন বয়সে টুর্নামেন্টটির সর্বকনিষ্ঠ মাসসেরা ফুটবলার হওয়ার কীর্তি গড়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই মিডফিল্ডার। দুই বছর আগে এমএলএসে যাত্রা শুরু করা কাভানের সাম্প্রতিক সময়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এসেছে এই পুরস্কার। এরই মধ্যে মার্কিন জাতীয় দলের হয়েও অভিষেক হয়েছে তার।
এর আগে এমএলএসে সর্বকনিষ্ঠ মাসসেরা ফুটবলারের রেকর্ডটি ছিল ড্যারিল ডাইকের দখলে। ২০২০ সালের আগস্টে ২০ বছর ৯৮ দিন বয়সে ওরল্যান্ডো সিটির এই স্ট্রাইকার মাসসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তার চেয়ে প্রায় তিন বছর কম বয়সেই সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন কাভান।
সেপ্টেম্বরজুড়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের জার্সিতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন কাভান। পুরো মাসে ৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ৫টি গোল করিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ৯টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার, যা সেপ্টেম্বরে পুরো লিগে সর্বোচ্চ।
কাভানের ফুটবল প্রতিভা অবশ্য পারিবারিকভাবেও আলাদা মাত্রা পেয়েছে। তার বড় দুই জমজ ভাই রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। চার ভাইয়ের সবার ছোট কাভানের ক্ষেত্রেও নিজের দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সম্প্রতি। মার্কিন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় রয়েছেন কাভান। ফিলাডেলফিয়ার হয়ে নিজের সবশেষ টানা ৮ ম্যাচেই গোল করেছেন অথবা সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। এমএলএসের ইতিহাসে কোনো টিনএজ ফুটবলারের এমন কীর্তি এর আগে দেখা যায়নি।
চলতি মৌসুমেও কাভানের পারফরম্যান্স নজরকাড়া। এখন পর্যন্ত ৭ গোল করার পাশাপাশি ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অর্থাৎ ১৯টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তার। এক মৌসুমে কোনো টিনএজ ফুটবলারের গোলে অবদানের হিসাবে এটি এমএলএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
কাভানের এই উত্থানে নজর পড়েছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোরও। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই প্রতিভাবান ফুটবলার ১৮ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এরই মধ্যে তার দিকে নজর রাখছে ইউরোপের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাও।
এমএলএসে কাভানের অভিষেকও ছিল ইতিহাসের অংশ। মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে প্রথমবার লিগের মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি পাথওয়ের মাধ্যমে এমএলএস নেক্সট লীগ থেকে এমএলএস নেক্সট প্রো হয়ে প্রথম দলে উন্নীত হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এমএলএসের মাসসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও নিজের করে নিয়ে আরও একটি ইতিহাস লিখলেন তরুণ এই ফুটবলার।


