ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে কিউবার ‘অনেক’ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

লাতিন আমেরিকার দেশ কিউবা ও ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র। উভয় দেশই কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ওয়াশিংটন যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে সেনা সমাবেশ করছিল, তখন মাদুরো তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শের জন্য কিউবান দেহরক্ষী ও উপদেষ্টাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন—এমন তথ্য মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

তবে অভিযানে নিহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি ভেনেজুয়েলা বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই। এ বিষয়ে ট্রাম্প জানান, অভিযানে কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হয়নি।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘গত রাতে অনেক কিউবান প্রাণ হারিয়েছে। তারা মাদুরোকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। এটা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না।’ তবে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেখান থেকেই তারা অর্থ ও জ্বালানি পেত। কিউবা ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এবার তা কোনো কাজে আসেনি।

এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবাকে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি হাভানায় থাকতাম বা সরকারে থাকতাম, তাহলে অন্তত একটু হলেও চিন্তিত হতাম।’

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তিনি ভাবছেন না। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, অভিযান চালানো হবে না। তবে কিউবা নিজেই ভেঙে পড়বে। দেশটি অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।’

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version