ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর নৌকাটির একজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব মাল্টা জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মাল্টায় নেওয়া হয়েছে। মাল্টার সামরিক বাহিনীর বরাতে জানানো হয়, তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে সাগরে ভেসে ছিলেন। তিউনিশিয়ার দিকে যাত্রারত একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির ভাষ্যমতে, নৌকাটিতে থাকা আনুমানিক ৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। জানা গেছে, উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল।
ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন উপকূল থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় নামেন। সাধারণত ছোট ও অনিরাপদ নৌকায় করে তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির জাতীয়তা কিংবা নৌকাটিতে থাকা অন্য যাত্রীদের দেশ পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এ ধরনের যাত্রায় অংশ নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
গত এক দশকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পথেই প্রায়ই নৌকাডুবি, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মর্মান্তিক খবর সামনে আসে।
২০১৪ সাল থেকে এই সমুদ্রপথে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজের তথ্য পর্যবেক্ষণ করছে বেসরকারি সংস্থা মিসিং মাইগ্রেন্টস। সংস্থাটির হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় মোট ৩৩ হাজার ৩২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই সাগরে অন্তত ২৬ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাডুবির ঘটনায় মোট এক হাজার ৮৭৩ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

