বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে অপরিমেয় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার কারণে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অকৃত্রিম ঋনে আবদ্ধ বাংলা সাহিত্যসহ সারাবিশ্বের বাঙালি। আজ ৮ মে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির জন্মবার্ষিকীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপিত করবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তি) পরিবেশিত হবে। ঢাকাসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। পাশাপাশি কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে বিশেষ স্মরণিকা ও পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত জেলাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিস্তারিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। এ বছর কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ওয়াকিল আহমেদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী ও গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। বাঙালি সমাজে তার রচিত সংগীতের জনপ্রিয়তা এত বছর পরেও অতুলনীয়। তিনি ২ হাজার গান রচনা করেন। অধিকাংশ গানে সুরারোপ করেন। কবির লেখা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতটিও কবির লেখা। কবির মৃত্যুর পর বিশ্বভারতী থেকে ৩৬ খণ্ডে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ প্রকাশ পেয়েছে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।


