নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের বর্বর হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে একটি স্থানীয় বাজার। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। তবে বেসরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ডেমো গ্রামের কাসুয়ান দাজি বাজারে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে একদল অস্ত্রধারী বাজারে প্রবেশ করে এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালাতে শুরু করে। আতঙ্কে মানুষ দিগ্বিদিক ছুটে পালানোর চেষ্টা করে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, হামলাকারীরা ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। গুলিবর্ষণের পাশাপাশি তারা বাজারের একাধিক দোকান ও স্টলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং খাদ্যসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে।

আহত দাউদা শাকুল্লে বলেন, “ওরা নারী-শিশু কাউকেই ছাড় দেয়নি। হামলার পর দীর্ঘ সময় কোনো নিরাপত্তা বাহিনী আসেনি।” তার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেরা মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী খালিদ পিসসা জানান, শুধু কাসুয়ান দাজি নয়—চুকামা ও শাঙ্গা এলাকাতেও একই ধরনের হামলা হয়েছে। তার মতে, মোট নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছিল আগের দিন শুক্রবার থেকেই। আগওয়ারা ও বোরগু গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় তখন থেকেই সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়তে দেখা যায়।

ঘটনার পর নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান জোরদার এবং বনঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য যে, এর কয়েক সপ্তাহ আগেই একই অঞ্চল থেকে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version