আগামীকাল সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ। ঘরমুখো মানুষের এই ঢলকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দিলেও, ঈদের ঠিক আগের দিনে মিলেছে স্বস্তির খবর—ফিরেছে সড়কের স্বাভাবিক গতি।
গত কয়েকদিন ধরে এই মহাসড়কে ছিল যানবাহনের ব্যাপক চাপ। কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। থেমে থেমে চলা যানবাহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাড়ি ফেরা মানুষদের।
তবে শুক্রবার, ঈদের আগের দিন, সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। মহাসড়কে নেই কোনো যানজট, স্বস্তিতে এবং নির্বিঘ্নে গন্তব্যে ফিরছেন যাত্রীরা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ টাকা।
এর মধ্যে বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকাগামী ১৩ হাজার ৭১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ টাকা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩১ হাজার ৮৯৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত পাঁচ দিনে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬টি যানবাহন যমুনা সেতু পার হয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, আগের দিন সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। বিকল গাড়ি সরাতে সময় লাগায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
এদিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমে যায়। ফলে আজ সকাল পর্যন্ত সড়কে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করছে এবং যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন।


