যুক্তরাষ্ট্রের সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে শনিবার ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি সমাবেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় বড় কর্মসূচিতে ছোট শহর ও রক্ষণশীল এলাকায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আন্দোলনের মূল বিষয় নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার হলেও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ইরানে নতুন যুদ্ধ, চড়া দাম, অভিবাসন দমন ও গর্ভপাত অধিকার কমানোসহ বিভিন্ন ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। আপস্টেট নিউ ইয়র্কের একটি রিপাবলিকান এলাকায় ৩৭ বছরের ক্যাইটলিন পিস ১৪ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভে এসেছেন।

মিনেসোটায় আয়োজিত সবচেয়ে বড় সমাবেশটি রাজ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। গভর্নর টিম ওয়ালজ সমাবেশে বলেছেন, ‘যখন গণতন্ত্র ঝুঁকিতে পড়েছিল, তখন মিনেসোটা বলেছিল — আমরা বেঁচে থাকতে এটা হতে পারে না।’ ব্রুস স্প্রিংস্টিন মিনেসোটার মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন।

৫৯ বছরের ড্যান শেশনি বলেছেন, ‘আমরা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে আটকে যাব, বের হওয়ার পথ নেই।’ ৫৭ বছরের মার্শা লুজিয়ার কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছেন, ‘আমাদের মানুষ এমন একটা যুদ্ধের জন্য সেখানে আছেন, যেখানে যাওয়াই উচিত ছিল না।’ লস অ্যাঞ্জেলেসে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হয়েছেন।

৬২ বছরের জন মেনা বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাকে আন্দোলনকারী বানিয়েছেন।’ তিনি দ্রব্যমূল্য ও ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। গত অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আন্দোলন ছিল। এবারের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

এই বিক্ষোভ কমপক্ষে ১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রোম, প্যারিস, মাদ্রিদ, আমস্টারডাম, সিডনি ও টোকিওতে সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে। সব মিলিয়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version