ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলটির হয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার (৪ অক্টোবর) কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।
এর মধ্যেই সোমবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ এবং সমালোচনা নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী।
রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার সুযোগকে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন কোয়েল। তিনি বলেন, ‘আপার হাউজের সদস্য হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। কারণ এটা একটা বিশাল দায়িত্ব। দেশের মানুষের সেবা করার ধর্ম আমরা সবসময়ই পালন করে থাকি। ফলে একটা প্ল্যাটফর্ম পেলে ক্ষমতাটা অনেক বেড়ে যায়, সেই সুযোগটা পেয়ে আমি অনেক আনন্দিত।’
বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কোয়েল।
তার ভাষ্য, ‘ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে, তারাই আমাকে সিলেক্ট করেছেন। গত কয়েক মাসে বাংলায় যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে, তাতে আমরা খুবই আনন্দিত। মনে হয়, এটাই দরকার।’
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য ছিলেন কোয়েল। কয়েক মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর তিনি পদত্যাগ করেন। এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সমালোচকদের নিয়ে কোনো ক্ষোভ নেই বলে জানিয়েছেন কোয়েল। তিনি বলেন, ‘আমার তাদের প্রতি কোনো রাগ নেই। হয়তো আমি সাইকোলজিতে পড়েছি বলে এই ধৈর্যের মানসিকতা আমার রয়েছে। তারা অন্যকে অপমান করে যে আরাম পেয়েছে, সেটা তাদের ক্ষোভ থেকে। তারা যদি আনন্দে বা সুখে থাকত, তাহলে অন্যকে অপমান করে, টক্সিসিটি ছড়িয়ে আনন্দ পেতো না। তাদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি।’
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন কোয়েল। রাজ্যসভার নতুন দায়িত্বকে সামনে রেখে এখন তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েই নজর থাকছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের।


