ইরানের রাজধানী তেহরান-এ অবস্থিত তোফিগ দারু ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামাল উৎপাদন ইউনিটে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, হামলায় কারখানাটির উৎপাদন অবকাঠামো এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) বিভাগ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাহদি পিরসালেহি এই ঘটনাকে দেশের চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একটি গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ওষুধ উৎপাদন না করলেও অপারেশন থিয়েটারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কাঁচামাল তৈরিতে এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একে ‘নির্লজ্জ যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তেহরানের দাবি, বেসামরিক চিকিৎসা অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটি নাকি ইরানের এসপিএনডি সংস্থার জন্য বিশেষ ধরনের রাসায়নিক উপাদান সরবরাহ করত। তাদের অভিযোগ, এই সংস্থাটি ইরানের সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি, অন্যদিকে বেসামরিক চিকিৎসা খাতে মারাত্মক ক্ষতির অভিযোগ—এই দ্বৈত অবস্থানের কারণে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

